Site icon এইমাত্র | EiMatro TV | এইমাত্র টিভি

মুক্তাগাছায় শিশু খাদ্যে অনুমোদনহীন ‘গ্রামীণ চাটনি’র মালিক মিলন গ্রেফতার

মুক্তাগাছায় শিশু খাদ্যে অনুমোদনহীন ‘গ্রামীণ চাটনি’র মালিক মিলন গ্রেফতার

মুক্তাগাছায় শিশু খাদ্যে বিষাক্ত উপাদান: অনুমোদনহীন ‘গ্রামীণ চাটনি’র মালিক মিলন গ্রেফতার

মোঃ মোশাররফ হোসেন, মুক্তাগাছাঃ

একই অভিযানে তারাটি থেকে ৪ শত মিটার অবৈধ চায়না দোয়ারী জাল ধ্বংস**

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় শিশু খাদ্যে বিষাক্ত উপাদান ব্যবহার ও অনুমোদনহীনভাবে খাদ্য উৎপাদনের অভিযোগে ‘গ্রামীণ চাটনি’ কারখানার মালিক মিলনকে গ্রেফতার করেছে উপজেলা প্রশাসন। শনিবার বিকেলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে কারখানার সকল সরঞ্জাম, কেমিক্যাল ও প্যাকেজিং উপকরণ জনসমক্ষে ধ্বংস করা হয়।

শিশু খাদ্যে বিষাক্ত উপকরণ: তিন মাস ধরে অনুমোদন ছাড়াই উৎপাদন

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন মাস আগে পৌর শহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে একটি ঘর ভাড়া নিয়ে অনুমোদন ছাড়াই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এসব শিশু খাদ্য উৎপাদন করছিলেন মিলন।

সরেজমিনে দেখা যায়—কারখানায় দুইজন নারী কর্মী শিশু খাদ্য প্যাকেটজাত করার কাজ করছিলেন। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালানোর চেষ্টা করেন। তারা জানান, মিলন নিজেই বিষাক্ত মিশ্রণ প্রস্তুত করতেন, তারা শুধু প্যাকিং করতেন।

সাংবাদিকদের দেখে মালিকের উত্তেজিত আচরণ

ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশে উত্তেজিত আচরণ করেন কারখানার মালিক মিলন। তিনি সাংবাদিকদের ফোনে গণ অধিকার পরিষদের নেতা এস এম ডাঃ জিন্নাহ মিয়ার সাথে কথা বলতে জোরাজুরি করেন এবং ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টাও করেন।

ইউএনওর মোবাইল কোর্ট: সরঞ্জাম ধ্বংস ও মালিক গ্রেফতার

ঘটনার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতিকুল ইসলামকে জানানো হলে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন।

পরে কারখানার সকল তৈরি সরঞ্জাম, বিষাক্ত কেমিক্যাল ও প্যাকেজিং উপকরণ সরকারি শহীদ স্মৃতি কলেজ মাঠে নিয়ে জনসমক্ষে আগুন দিয়ে ধ্বংস করা হয়। এ সময় কারখানার মালিক মিলনকে আটক করে পুলিশি হেফাজতে পাঠানো হয়।

একইদিনে পৃথক অভিযান: অবৈধ চায়না দোয়ারী জাল ধ্বংস

একইদিন দুপুরে তারাটি এলাকায় আরেকটি অভিযানে ৪ শত মিটার অবৈধ ‘চায়না দোয়ারী’ জাল আটক করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম।
পরে পেট্রোল ঢেলে জনসম্মুখে আগুন দিয়ে জালগুলো ধ্বংস করা হয়।

প্রশাসনের কঠোর অবস্থান

ইউএনও আতিকুল ইসলাম বলেন—
“অস্বাস্থ্যকর খাদ্য উৎপাদন কিংবা অবৈধ মাছ ধরার সরঞ্জাম—যে প্রক্রিয়াই হোক, মানুষের জীবন ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থাকবে।”
তিনি সাংবাদিকসহ স্থানীয় জনগণকে যেকোনো অনিয়মের তথ্য দ্রুত প্রশাসনকে জানানোর আহ্বান জানান।

Exit mobile version