স্টাফ রিপোটার: ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার পনাশাইল এলাকায় বাড়িতে হামলা, লুটপাট, স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা চুরি এবং হত্যাচেষ্টার অভিযোগে থানায় প্রতিকার না পেয়ে শেষ পর্যন্ত আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন এক ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে ময়মনসিংহের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৮ নং আমলি আদালতে একটি সি.আর. মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলার বাদী উপজেলার পনাশাইল ইউনিয়নের মোহনা গ্রামের বাসিন্দা মো. আবু রাসেল। আদালতে দাখিল করা মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, গত ৯ মে ২০২৬ রাত আনুমানিক ১টার দিকে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে তার বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে ঘরের তালা ভেঙে প্রায় ১৩ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, ২৫ হাজার টাকা নগদ অর্থ এবং বিভিন্ন ব্যাংকের একাধিক চেক বই নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় ভালুকা মডেল থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন বাদী। তার অভিযোগ, থানায় অভিযোগের বিষয়টি জানতে পেরে অভিযুক্তরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ১৪ মে ২০২৬ বিকেলে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুনরায় তাদের বাড়িতে হামলা চালায়।

মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে, হামলার সময় বাদীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপদিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। তার বাম হাতে গভীর ক্ষতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। এ সময় পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের নারী সদস্যরা অভিযোগ করেন, হামলার সময় বাড়িতে ভাঙচুর, লুটপাট ও আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়। ঘটনার পর থেকে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।

মামলায় আরও বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা এলাকায় মাদকসেবন ও বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এবং তাদের ভয়ে স্থানীয় অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পান না।

এ ঘটনায় খাইরুল ইসলাম ফকিরসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। বাদী আদালতের কাছে মামলাটি আমলে নিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন জানিয়েছেন।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এলাকায় বিভিন্ন সময় নানা ধরনের অভিযোগ শোনা যায়। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও আইনগত বিষয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত খাইরুল ইসলাম ফকিরের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা পর কথঅ বলতে সক্ষম হই তিনি বলেন আমার বিষয়ে এলাকাবাসীর কাছে জানবেন তারা যা বলবে তাহাই সত্য।

এ বিষয়ে জানতে ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম-এর সঙ্গে থানায় গিয়ে সাক্ষাৎ করা সম্ভব হয়নি। পরে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে জানতে পারি চুরির কোন আলামত পাওয়া যায়নি।