মোঃ মোশাররফ হোসেন
ময়মনসিংহ
প্রযুক্তির অপব্যবহার থেকে সৃষ্ট জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা মোকাবিলায় রাষ্ট্র, সমাজ ও নাগরিকদের সমন্বিত ভূমিকা অপরিহার্য বলে মত দিয়েছেন বক্তারা। বুধবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ময়মনসিংহের দিঘারকান্দ শাপলা ট্রেনিং সেন্টারে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় টেকনোলজি ফ্যাসিলিটেটেড জেন্ডার বেইসড ভায়োলেন্স (TFGBV) প্রতিরোধের কৌশল ও করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
“প্রযুক্তির সহায়তায় সংঘটিত জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা: প্রতিরোধ ও করণীয়” শীর্ষক এই সভায় ময়মনসিংহ জেলার বর্তমান ডিজিটাল বাস্তবতা তুলে ধরা হয়। আলোচনায় বলা হয়, জেলা ও মহানগর এলাকায় স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার দ্রুত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনলাইন হয়রানি, ডিজিটাল ব্ল্যাকমেইল, ভুয়া আইডি ব্যবহার এবং ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহারের ঘটনাও উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
স্থানীয় সাইবার সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানানো হয়, ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত ময়মনসিংহ জেলা ও সদর থানায় নারী ভুক্তভোগীদের করা সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত মামলার সংখ্যা শতাধিক। তবে সামাজিক চাপ, দীর্ঘসূত্রতা ও ঢাকাকেন্দ্রিক বিচার ব্যবস্থার জটিলতায় অনেক ভুক্তভোগী আইনি পথে যেতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।
সভায় TFGBV-এর বিভিন্ন রূপ যেমন সাইবার বুলিং, ডক্সিং, ইমেজ বেইসড অ্যাবিউজ, ডিজিটাল ব্ল্যাকমেইল এবং ডিপফেইক প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বক্তারা বলেন, এসব অপরাধ কেবল অনলাইন পরিসরে সীমাবদ্ধ নয়; বরং নারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি, সামাজিক সম্মানহানি, শিক্ষা ও পেশাজীবনে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
আইনি দিক আলোচনায় উঠে আসে, দেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনসহ একাধিক আইন থাকলেও মাঠপর্যায়ে প্রশিক্ষিত সাইবার তদন্ত কর্মকর্তা এবং ভুক্তভোগীবান্ধব সহায়তা ব্যবস্থার ঘাটতি রয়েছে। এর ফলে অনেক ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
নীতিগত প্রস্তাবে জেলা পর্যায়ে বিশেষায়িত সাইবার সেল বা ট্রাইব্যুনাল গঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল নাগরিকত্ব বিষয়ে পাঠদান, ইউনিয়ন ও সিটি করপোরেশন পর্যায়ে সাইবার সহায়তা ডেস্ক চালু এবং গণমাধ্যমে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারের সুপারিশ করা হয়।
বক্তারা বলেন, প্রযুক্তি মানুষের কল্যাণে ব্যবহারের জন্য। তাই প্রযুক্তিনির্ভর সহিংসতার বিরুদ্ধে নীরবতা নয়, বরং সংবেদনশীলতা, কার্যকর আইন প্রয়োগ এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার মাধ্যমে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাংবাদিক ও সামাজিক কর্মী স্বাধীন চৌধুরী। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) উম্মে হাবিবা মিরা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, গণমাধ্যমকর্মী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং নারী অধিকারকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এইমাত্র | EiMatro TV | এইমাত্র টিভি এইমাত্র | EiMatro TV | এইমাত্র টিভি