চিকিৎসার ভরসাস্থলে চরম হতাশা: নানামুখী সংকটে ধুঁকছে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতাল
চিকিৎসার ভরসাস্থলে চরম হতাশা নানামুখী সংকটে ধুঁকছে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতাল

চিকিৎসার ভরসাস্থলে চরম হতাশা: নানামুখী সংকটে ধুঁকছে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতাল

নিজাম উদ্দীন, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম প্রধান ভরসাস্থল জেলা সদর হাসপাতাল। তবে নানা সমস্যা, অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের অভিযোগে হাসপাতালটিতে সেবা নিতে এসে ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। জরুরি চিকিৎসাসেবা থেকে শুরু করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকট, শয্যার অপ্রতুলতা, লিফটের কারিগরি ত্রুটি এবং সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা না দিয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ ও কয়েকজন সেবাগ্রহীতার সঙ্গে কথা বলে হাসপাতালটির বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার চিত্র উঠে এসেছে।

ইএনটি বিশেষজ্ঞের সংকটে জরুরি চিকিৎসা নিয়ে ভোগান্তি

নাক, কান ও গলা (ইএনটি) সংক্রান্ত জটিল বা জরুরি সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগীদের ভোগান্তিতে পড়ার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন সেবাগ্রহীতা। তাদের দাবি, জরুরি প্রয়োজনে ইএনটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা পাওয়া যায় না। ফলে সময় নষ্ট না করে রোগীদের বেসরকারি ক্লিনিক বা হাসপাতালে যেতে হচ্ছে।

সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, এতে বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের রোগীদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা না দিয়ে প্রাইভেটে যাওয়ার পরামর্শের অভিযোগ

দন্ত চিকিৎসাসেবা নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দন্ত চিকিৎসক উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও অনেক রোগী কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ার দাবি করেছেন।

কয়েকজন রোগীর অভিযোগ, হাসপাতালে দাঁতের চিকিৎসা নিতে গেলে বিভিন্ন কারণে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয় এবং বেসরকারি চেম্বার বা ক্লিনিকে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

শয্যা সংকটে মেঝেতে রোগী

হাসপাতালে রোগীর চাপের তুলনায় শয্যা সংখ্যা অপ্রতুল—এমন অভিযোগও রয়েছে। অনেক সময় শয্যা খালি না থাকায় রোগীদের মেঝেতে অবস্থান করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন রোগীর স্বজন।

তাদের অভিযোগ, দূর-দূরান্ত থেকে চিকিৎসার জন্য আসা গুরুতর অসুস্থ রোগীদেরও পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এতে রোগী ও স্বজনদের দুর্ভোগ আরও বাড়ছে।

লিফট নিয়ে রোগী-স্বজনদের উদ্বেগ

হাসপাতালের লিফট নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে। অভিযোগ রয়েছে, লিফটটি ধীরগতির এবং মাঝে মধ্যে কারিগরি সমস্যায় আটকে যায়। জরুরি রোগী পরিবহনের ক্ষেত্রে এ ধরনের সমস্যা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন সেবাগ্রহীতা।

তাদের দাবি, দ্রুত লিফটের কারিগরি ত্রুটি পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় মেরামত ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

সমাধানের দাবি

হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়নে কয়েকটি দাবি জানিয়েছেন রোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এর মধ্যে রয়েছে—

  • জরুরি বিভাগে প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পদায়ন ও তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা;
  • দায়িত্ব পালনকালে রোগীদের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পাঠানোর অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া;
  • হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি করা;
  • হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশের মান উন্নত করা;
  • লিফটের কারিগরি ত্রুটি দ্রুত মেরামত এবং প্রয়োজন হলে আধুনিকায়ন করা।

সেবাগ্রহীতাদের দাবি, সরকারি হাসপাতালটিতে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা গেলে কিশোরগঞ্জের নিম্ন ও মধ্যম আয়ের বিপুলসংখ্যক মানুষ উপকৃত হবেন। একই সঙ্গে অভিযোগগুলোর তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি

এসব অভিযোগ ও অব্যবস্থাপনার বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি সরেজমিনে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (তত্ত্বাবধায়ক ভারপ্রাপ্ত) ডা. নূর মো. শামসুল আলমের কার্যালয়ে যান। তবে সেখানে তাকে পাওয়া যায়নি।

পরবর্তীতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত এসব অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।

About EiMatro TV

📰 EiMatro TV সম্পর্কে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *