মুক্তাগাছায় মাদ্রাসায় চুরি, এনভিআর নিয়ে গেল চোর
ছাদের ছিদ্র দিয়ে প্রবেশ, ঘটনাস্থলে জুতা-হাতুড়ি; অভিযোগের পরও পুলিশের ঘটনাস্থল পরিদর্শন না করার অভিযোগ
মুক্তাগাছা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় একটি মাদ্রাসার অফিস কক্ষে চুরি ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। চোর ছাদের ওপরের একটি ছোট ছিদ্র দিয়ে মাদ্রাসার ভেতরে প্রবেশ করে অফিস কক্ষের আলমিরার তালা ভেঙে নগদ টাকা ও সিসিটিভি ক্যামেরার রেকর্ডিং ডিভাইস নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। ঘটনাস্থলে চোরের ব্যবহৃত জুতা, হাতুড়িসহ কিছু আলামত পড়ে থাকার দাবি করা হলেও অভিযোগ পাওয়ার পরও দুই দিন পর্যন্ত পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেনি বলে অভিযোগ উঠেছে।
মুক্তাগাছার বিনোদবাড়ী মানকোন এলাকার মাদ্রাসাতুল আববার মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক মো. আনোয়ারুল ইসলাম মুক্তাগাছা থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে জানান, ৩১ আগস্ট বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে মাদ্রাসার কার্যক্রম শেষে অফিস কক্ষে তালা লাগিয়ে শিক্ষকরা চলে যান। পরে ২ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে অফিস খোলার পর ভাঙচুর ও চুরির বিষয়টি নজরে আসে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, অফিস কক্ষের পাশের একটি রুমের টিনের বেড়া কাটা এবং অফিসের একটি স্টিলের ও তিনটি কাঠের আলমিরার তালা ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়। স্টিলের আলমিরার ওপর থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার এনভিআর, যার আনুমানিক মূল্য ১৫ হাজার টাকা, এবং আলমিরায় রাখা প্রতিষ্ঠানের নগদ ৩৫ হাজার টাকা পাওয়া যায়নি। অভিযোগে চুরি যাওয়া এসবের মোট মূল্য ৫০ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, নিচতলার বারান্দাসহ মাদ্রাসার বিভিন্ন অংশ লোহার গ্রিল দিয়ে ঘেরা এবং তালাবদ্ধ ছিল। ফলে চোর মূল দরজা দিয়ে প্রবেশ না করে ছাদের ওপর দিয়ে মাদ্রাসার ভেতরে ঢোকে।
ছাদের ওপর দেয়ালের একটি ছোট ছিদ্র সামান্য টিন দিয়ে রশির মাধ্যমে আটকানো ছিল। সেই টিন সরিয়ে ওই ছিদ্র দিয়ে চোর ভেতরে প্রবেশ করেছে বলে কর্তৃপক্ষের দাবি।
মাদ্রাসায় দুটি সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল বলে জানা গেছে। এর মধ্যে একটি ক্যামেরা ভেঙে ফেলা হয়েছে। অন্যটি বাইরে থাকায় সেটি অক্ষত রয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
তবে চোর সিসিটিভির এনভিআর ও হার্ডডিস্ক খুলে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের ধারণা, চুরির ঘটনার ভিডিও প্রমাণ নষ্ট করে নিজের পরিচয় গোপন করতেই রেকর্ডিং ডিভাইসটি নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
ঘটনাস্থলে পড়ে ছিল জুতা ও হাতুড়ি, চুরির সময় আশপাশে কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি বা যানবাহন চোখে পড়েনি বলে স্থানীয়দের ভাষ্য। তবে ঘটনাস্থলে চোরের ব্যবহৃত বলে ধারণা করা একটি জোড়া জুতা, একটি হাতুড়িসহ কিছু আলামত পড়ে থাকার দাবি করা হয়েছে।
এসব আলামত থেকে চোর শনাক্তের কোনো সুযোগ রয়েছে কি না, সেটিই এখন তদন্তের বিষয়। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে না যাওয়ায় এসব আলামত যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও পরীক্ষা করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগের পরও ঘটনাস্থলে পুলিশ যায়নি কেন?
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, ২ সেপ্টেম্বর থানায় অভিযোগ দেওয়া হলেও ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঘটনাস্থলে কোনো পুলিশ সদস্য তদন্তে যাননি। এমনকি এ সময়ের মধ্যে পুলিশ ফোনেও ঘটনাটির বিষয়ে খোঁজও নেয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে সাংবাদিকরা মুক্তাগাছা থানার সেকেন্ড অফিসার হাসিবুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগের কাগজ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান বলে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের ভাষ্য।
পরে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে অভিযোগের একটি অনুলিপি দেওয়া হলে থানার সংরক্ষিত নথি থেকে অভিযোগের একটি কপি বের করা হয়। সেখানে অভিযোগ গ্রহণের তারিখ ৩ সেপ্টেম্বর উল্লেখ রয়েছে বলে জানানো হয়।
এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, অভিযোগকারী ২ সেপ্টেম্বর অভিযোগ দেওয়ার দাবি করলে থানার নথিতে ৩ সেপ্টেম্বর গ্রহণের তারিখ কেন উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি, অভিযোগ গ্রহণের পরও ঘটনাস্থলে তদন্তে যেতে কেন বিলম্ব হলো, সে বিষয়েও পুলিশের কাছে জানতে চাওয়া হয়।
তদন্ত না হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ আলামত নিয়ে উদ্বেগ চুরির ঘটনায় ঘটনাস্থলে সম্ভাব্য আলামত পড়ে থাকার দাবি করা হলেও পুলিশ এখনো ঘটনাস্থল পরিদর্শন না করায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে জুতা, হাতুড়ি এবং সিসিটিভি ক্যামেরা তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এসব আলামত যথাযথভাবে সংগ্রহ ও পরীক্ষা করে চোরকে শনাক্তের উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না।
এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে চুরির ঘটনায় তদন্তের অগ্রগতি, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে বিলম্ব এবং অভিযোগ গ্রহণের তারিখের বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা প্রয়োজন।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং চুরি যাওয়া টাকা ও মালামাল উদ্ধারের পাশাপাশি জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক।
এইমাত্র | EiMatro TV | এইমাত্র টিভি এইমাত্র | EiMatro TV | এইমাত্র টিভি
