নির্বাচনের ১৪ দিন পরও ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন ও মুক্তাগাছা-৫ পৌরসভায় ঝুলছে পোষ্টার-ব্যানার

নির্বাচনের ১৪ দিন পরও ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন ও মুক্তাগাছা-৫ পৌরসভায় ঝুলছে পোষ্টার-ব্যানার

মোঃ মোশাররফ হোসেন, স্টাফ রিপোটার:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ ও ফলাফল ঘোষণার দুই সপ্তাহ পার হলেও ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন ও মুক্তাগাছা পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় এখনো প্রার্থীদের পোস্টার, ফেস্টুন ও ব্যানার ঝুলতে দেখা গেছে। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও অধিকাংশ স্থানে অপসারণের কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়েনি।

সরেজমিনে দেখা যায়, ময়মনসিংহ-৪ আসনের আওতাধীন সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ মোড়, পার্টি অফিসের সামনে ও বাজার এলাকায় এখনো নির্বাচনি প্রচারসামগ্রী টাঙানো রয়েছে। একই চিত্র মুক্তাগাছা-৫ আসনের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায়। বৈদ্যুতিক খুঁটি, গাছ ও থানার সামনে ব্যানার, প্যানা অনেক স্থানে ছিঁড়ে ঝুলছে, যা শহরের সৌন্দর্য নষ্ট করার পাশাপাশি পথচারীদের জন্যও বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নির্বাচন শেষ হয়েছে অনেক দিন। কিন্তু প্রচারণার পোস্টার ও ব্যানার অপসারণ না করায় পরিবেশ নোংরা হচ্ছে। দ্রুত এগুলো সরানোর দাবি জানান তারা।

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন প্রণীত সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধি অনুযায়ী, ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশের তারিখ থেকে সাত দিনের মধ্যে প্রার্থীদের নিজ উদ্যোগে সব ধরনের প্রচারসামগ্রী অপসারণ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা না করলে আচরণবিধি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হতে পারে।

ইসি সচিব আখতার আহমেদের স্বাক্ষরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে প্রকাশিত হয়। সে হিসেবে গেজেট প্রকাশের ১৩ দিন পরও বিভিন্ন স্থানে পোস্টার ও ব্যানার বহাল থাকায় প্রশ্ন উঠেছে দায়িত্ব পালন নিয়ে।

আচরণবিধি অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রচারসামগ্রী অপসারণ না করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিতে পারে এবং স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে অপসারণের ব্যবস্থা নিতে পারে।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. শাহিনুর ইসলাম প্রামানিক বলেন, গণমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছেন। যেসব এলাকায় এখনো পোস্টার ও ব্যানার রয়েছে, সেগুলো দ্রুত অপসারণের জন্য বিভাগীয় কমিশনারকে অবহিত করা হয়েছে।

অন্যদিকে মুক্তাগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৃষ্ণচন্দ্র বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সব প্রচারসামগ্রী সরিয়ে ফেলার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। পরে বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, ব্যানার ও পোস্টার অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে।

নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে আচরণবিধি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

About EiMatro TV

📰 EiMatro TV সম্পর্কে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *