মাছের বরফ কলেই তৈরি হচ্ছে আইসক্রিম: ঝুঁকিতে কোমলমতি শিশুরা

মাছের বরফ কলেই তৈরি হচ্ছে আইসক্রিম: ঝুঁকিতে কোমলমতি শিশুরা

নিজাম উদ্দীন, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার চৌদ্দশত ইউনিয়নের মতলবপুর গ্রামের একটি বরফ কলের আড়ালে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে আইসক্রিমসহ মানহীন শিশু খাদ্য উৎপাদনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই স্থানে কোনো ধরনের যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি ও অনুমোদন না মেনে শিশুদের জন্য আইসক্রিম তৈরি ও বাজারজাত করা হচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, যেখানে মাছের জন্য বরফ তৈরি ও সংরক্ষণ করা হয়, একই স্থানে আইসক্রিম তৈরির কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, পচা মাছের সংরক্ষণ ও আইসক্রিম তৈরির কার্যক্রম কাছাকাছি পরিবেশে চলায় পুরো এলাকায় দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।

মাছের বরফ ও আইসক্রিম একই পরিবেশে

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাছ সংরক্ষণ ও পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত বরফ তৈরির স্থানের পাশেই শিশুদের জন্য আইসক্রিম প্রস্তুত করা হচ্ছে। উৎপাদনস্থলের পরিচ্ছন্নতা, কাঁচামাল সংরক্ষণ ও খাদ্য তৈরির স্বাস্থ্যবিধি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

অভিযোগ রয়েছে, আইসক্রিম তৈরির কাজে নিম্নমানের কৃত্রিম রং ও রাসায়নিক ব্যবহারের মাধ্যমে পণ্যকে আকর্ষণীয় করে তোলা হচ্ছে। এসব রং খাদ্যপণ্যে ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত কি না, তা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

স্কুলপড়ুয়া শিশুরাই প্রধান ক্রেতা

স্থানীয়দের ভাষ্য, নিজস্ব বিক্রেতা বা হকারদের মাধ্যমে আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এসব আইসক্রিম বিক্রি করা হচ্ছে। টিফিনের সময় কিংবা স্কুল ছুটির পর স্বল্পমূল্যের এসব আইসক্রিম কিনে খাচ্ছে শিশুরা।

অভিভাবকদের অভিযোগ, শিশুদের আকৃষ্ট করতে আইসক্রিমে উজ্জ্বল রং ও বিভিন্ন ফ্লেভার ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে পণ্যের মান বা উপাদান সম্পর্কে না জেনেই শিশুরা তা খাচ্ছে।

স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ

খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, অননুমোদিত ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে উৎপাদিত খাদ্যপণ্য শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে খাদ্যপণ্যে অননুমোদিত শিল্পজাত রং বা ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর উদ্বেগের বিষয়।

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি বা দূষিত খাদ্য গ্রহণের ফলে ডায়রিয়া, বমি, পেটের ব্যথাসহ বিভিন্ন খাদ্যজনিত অসুস্থতা দেখা দিতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি নির্ভর করে ব্যবহৃত রাসায়নিকের ধরন, মাত্রা ও দীর্ঘদিনের সংস্পর্শের ওপর। তাই আইসক্রিমের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

একটি বরফ কলের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের খাদ্যপণ্য তৈরি হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন, আইসক্রিমের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার পাশাপাশি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন ও লাইসেন্স যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছে।

জনস্বাস্থ্য ও শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসন, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)-এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।

About EiMatro TV

📰 EiMatro TV সম্পর্কে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *