স্টাফ রিপোর্টার: ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের মাগুরজোড়া গ্রামে প্রায় এক দশক আগে ক্রয় করা জমিতে বসতবাড়ি নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন মো. রেজাউল করিম সোহাগ। তবে জমির সীমানা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ তার বসতবাড়ি ও জমিতে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
রেজাউল করিম সোহাগের দাবি, প্রায় ১০ বছর আগে তিনি বৈধভাবে সংশ্লিষ্ট জমি ক্রয় করেন। জমি ক্রয়ের সময় সাফ-কাওলা দলিল, খারিজসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন করার পর সেখানে বসতবাড়ি নির্মাণ করেন। এরপর থেকে পরিবার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ওই বাড়িতে বসবাস করে আসছেন। জমির বিক্রেতা প্রায় এক থেকে দুই বছর আগে মারা যান।
সোহাগের অভিযোগ, বর্তমানে ওই ব্যক্তির স্ত্রী কয়েকজন লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে তার জমি ও বসতবাড়ির সীমানা নিয়ে চাপ সৃষ্টি করছেন। এমনকি জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়ার পাশাপাশি গাছপালা কেটে ফেলার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।
তার ভাষ্য, প্রায় ৭–৮ মাস আগে বিষয়টি নিয়ে ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন তিনি। সেখানে তার জমির দলিল ও অন্যান্য কাগজপত্র পর্যালোচনা করা হয় এবং তাকে হয়রানি না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয় বলে দাবি করেন সোহাগ। তিনি জানান, ওই সময় তাকে যে স্থানে বসবাস করছেন, সেখানেই থাকার কথা বলা হয়েছিল। ওই বৈঠকে সাংবাদিক এটিএম মনিরুজ্জামান মনিরসহ আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন বলেও জানান তিনি।
তবে সোহাগের অভিযোগ, প্রায় ১০–১৫ দিন আগে এটিএম মনিরুজ্জামান মনিরসহ কয়েকজন ব্যক্তি তার জমিতে গিয়ে মাপজোক করেন এবং পরে তার সীমানার ভেতরে খুঁটি ও বেড়া স্থাপন করেন। এ ঘটনায় তিনি ক্ষুব্ধ হলেও কোনো ধরনের সংঘাতে জড়াতে চান না বলে জানান।
সোহাগ বলেন, সামাজিক সম্পর্ক নষ্ট কিংবা এলাকার কারও সঙ্গে বিরোধে জড়ানোর পরিবর্তে তিনি আইনগতভাবেই বিষয়টির সমাধান চান। তার দাবি অনুযায়ী, এ ঘটনায় বিজ্ঞ আদালতে মামলা করা হয়েছে, যার মামলা নম্বর ৩৮০/২৫ (৩৮৭/২৬)। পরবর্তীতে তার বসতবাড়িতে অবৈধ হস্তক্ষেপ ঠেকাতে আদালতের মাধ্যমে ১৪৪ ধারা জারি করা হয় বলেও তিনি জানান।
সোহাগের অভিযোগ, ১৪৪ ধারা জারি থাকা অবস্থাতেও কয়েকজন ব্যক্তি তার জমিতে গিয়ে খুঁটি স্থাপন করেছেন। এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ তার কাছে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে সামাজিক সম্পর্ক ও সম্ভাব্য সংঘাতের বিষয়টি বিবেচনা করে তিনি নতুন করে কোনো মামলা বা অভিযোগ করেননি বলে জানান।
তিনি আরও দাবি করেন, সাংবাদিক এটিএম মনিরুজ্জামান মনিরকে পূর্বের ইউএনও কার্যালয়ের সিদ্ধান্তের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তখন তিনি দুপক্ষকে মিলিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে এসেছেন বলে জানিয়েছিলেন। এরপর তিনি আর ওই স্থানে আসেননি বলেও দাবি করেন সোহাগ।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি তাকে বাড়িঘর ভেঙে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেছেন রেজাউল করিম সোহাগ। এমনকি মামলা দ্রুত শেষ করে দেওয়ার মতো কথাবার্তাও বলা হচ্ছে বলে দাবি তার।
রেজাউল করিম সোহাগ বলেন, “আমি কারও সঙ্গে বিরোধে জড়াতে চাই না। আমার বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। আমি শুধু চাই, আমার জমি, বসতবাড়ি ও পরিবারের নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী নিশ্চিত করা হোক। আইন নিজের গতিতে চলুক—কেউ যেন অর্থ, প্রভাব বা ব্যক্তিগত স্বার্থ ব্যবহার করে আইনের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে না পারে।”
তিনি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযোগটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, জমির সীমানা ও মালিকানা সংক্রান্ত বিষয় আইন অনুযায়ী নিষ্পত্তি এবং তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, জমির মালিকানা, সীমানা নির্ধারণ, ১৪৪ ধারার আদেশ এবং আদালতে চলমান মামলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট আদালত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।
এইমাত্র | EiMatro TV | এইমাত্র টিভি এইমাত্র | EiMatro TV | এইমাত্র টিভি
